#https://www.youtube.com/@mntvjashore3078

কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরী (নাটুবাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠিত,

 কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরী (নাটুবাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠিত, 



বরিশাল প্রতিনিধি/

বাকেরগঞ্জে মুক্তি যুদ্ধের স্মৃতি বিজারিত শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে অবশেষে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরী (নাটুবাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে নাম করন শেষে নাম ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠান অদ্য ৮ ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আল মামুনের সভাপতিত্বে বরিশাল জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ ইউনুস প্রধান অতিথি হিসেবে  উপস্থিত থেকে এ নাম ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রিয় পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্র শীল, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদর্শক জামাল উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আকমল হোসেন, সমাজ সেবক ও প্রতিষ্ঠাতা নাটুবাবুর স্ত্রী ছায়া রায় চৌধুরী, হিন্দু বদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের শংকর দাস, উপজেলা ক্রিয়া সম্পাদক বিক্রম দাস, সাংবাদিক নেত্ববৃন্দ সহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক গন্যমান্য অতিথিরা।   


ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব সোনাম দি চাকমা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এ বিষয়  তার ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিপ্লব বহৃি রায় চৌধুরী জানান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা পক্ষের সরকারের কর্মকর্তা ও উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের ঊদ্যোগে তাদের সুপারিশে শ্যামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শহীদ কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরী (নাটুবাবু) মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাম করনের মহৎ কাজটি সম্পন্ন হয়েছে।   এজন্য তিনি  সকল প্রশংসা মহান সৃষ্টিকর্তার উপর ছেড়ে দিয়ে, যথারীতি কৃতজ্ঞতা জানান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, মাননীয় উপশিক্ষামন্ত্রী এবং সরকারের বলিষ্ঠ সৎ কর্মকর্তাদের এবং নেতৃবৃন্দকে যারা এই মহৎ কার্য সম্পাদন করতে অফুরন্ত অবদান রেখেছেন। একইসাথে আবেগপূর্ণ বক্তব্যে তিনি স্বরণ করেন তার বাল্যবন্ধু সহপাঠী মরহুম মাসুদুর রহমানকে যিনি এই মহৎ কাজটি সম্পন্ন করতে উৎসহ যুগিয়ে পাশে ছিলো। এছাড়াও সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।


বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মুক্তি যোদ্ধাদের স্মৃতি বিজারিত একমাত্র মুক্তি যোদ্ধা ক্যাম্প হিসেবে পরিচিত এ বিদ্যালয়টি মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা জমিদার নাটুবাবু ১৯৩২ সানে স্থানীয় সাধারণ মানুষের পড়ালেখার সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠা কালীন শুরু থেকেই বিদ্যালয়টি নিয়ে স্থানীয় কুচক্রী মহল নানান স্বরযন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা সংখ্যালগু সম্প্রাদয়ের দোহাই দিয়ে পরিবারটিকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে কোনঠাসা করে রাখেন। এমন কি যুদ্ধ পরবর্তী এ চক্রটি নির্মম ভাবে হত্যা করেন মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক নাটুবাবুকে। পরবর্তীতে দানবীয় শক্তির সাথে লড়াই চালিয়ে তার স্ত্রী ছায়া রায় চৌধুরী কঠোর পরিশ্রম করে নিজ সন্তানদের মানুষ করার পাশাপাশি হাল ধরেন এই বিদ্যালয়ের। কিন্তু বিষয় টি সহজ ভাবে নিতে পারেনি অশুভ চক্রটি, তারা একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে বিদ্যালয়টির সমস্ত দ্যায় নিজেদের কব্জায় নিতে উঠে পরে লাগে, এমন কি তাদের এলাকা ছাড়া করার ও নিল নকশা বাস্তবায়ন করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। কিন্তু বিধি বাম বর্তমান সরকার মুক্তি যোদ্ধা বান্ধব সরকার তারা মুক্তি যোদ্ধা পরিবারকে সব রকম সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর। সংবাদ পেয়ে এগিয়ে এসে পরিবারের পাশে দাঁড়ান তৎকালীন বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোখলেছুর রহমান ও উপজেলা মুক্তি যোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার মরহুম মানিক হোসেন মোল্লার নেতৃত্ব একদল মুক্তি যোদ্ধারা, তাদের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়ে যায় বিতর্কিত কমিটি গঠনের পায়তারা। নিজ খরচে মুক্তি যোদ্ধাদের যাবতীয় খরচ বহনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরীর পরিবারকে উচ্ছেদের প্রচেষ্টা বিষয় টি বহুল ভাবে প্রচারিত হলে টনক নড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের। তারা মুক্তি যুদ্ধের এই মহান মানুষটির সন্মান রক্ষায় সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস দিলে পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে  বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে শহীদ কুমুদ বন্ধু রায় চৌধুরী নাটুবাবু  মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে নাম করনের আবেদন করে। বিষয় টি আচ করতে পেরে তৎকালীন চক্রটি সক্রিয় হয়ে বিদ্যালয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি, বিক্ষোভ সমাবেশ সহ বিভিন্ন অপকৌশলে বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করে নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। অবশেষে ওদের সব রকমের বিরোধিতা উপেক্ষা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে মুক্তি যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সংগঠককে সন্মানিত করলেন কতৃপক্ষ। মুক্তি যুদ্ধের স্মৃতি বিজারিত বিদ্যালয়ের নামটি একজন প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধার নামে নাম করনকে স্বাগত জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্তরের গন্যমান্য ব্যাক্তিরা ও দল মত নিবিশেষে সকল শ্রেনী পেশার লোকজন।

Post a Comment

Previous Post Next Post