কাঁশ ফুলের অপরূপ দৃশ্য দেখতে কাঁশবনে দর্শনার্থীদের আগমন
মামুন-উর-রশিদ সাজু, স্টাফ রিপোর্টার যশোর: বাংলার ঋতুবৈচিত্র অবিরাম ধারায় পালা বদল হয়। বর্ষার বিষন্ন বিধূর নিঃসঙ্গতা পেরিয়ে শরতের আবির্ভার ঘটে। বদলে যায় প্রকৃতির শোভা বৈচিত্র। পূর্ণতা পায় শরৎ ঋতু। স্নিগ্ধ রূপ-মাধূর্য মানুষের মন কেড়ে নেয়।
নীল আকাশে দেখা মিলেছে সাদা মেঘের মেলা। মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টি। তারই ফাঁকে সূর্য উঁকি দেয় নীল আকাশে। সূর্যের কিরণ ছড়িয়ে পড়ে জমিনে। পূর্ণ যৌবনা নদী ভরা পানি। তারই পাশে কাঁশ ফুলের দুলুনি এক অপরূপ সৌন্দর্য।
মাঠ ভরা ধান বাতাসের দোলায় দোলে। দুর্বা ঘাসের উপর বিন্দু বিন্দু শিশিরকণা। প্রকৃতির অপরূপ শোভায় শ্যামলী বাংলার আকাশ-বাতাস মানুষের দু’নয়ন জুড়িয়ে দেয়।
মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের প্রতাপকাটি গ্রামে এমনি সৌন্দর্য মন্ডিত দৃশ্যের দেখা মেলে। শ্যামলী বাংলার গাও গ্রাম প্রতাপকাটি। এ গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে পাকা রাস্তা। এ রাস্তার পাশে অনেক খানি জায়গা জুড়ে রয়েছে কাঁশবন। তারই পাশে মাঠভরা সোনালী ফসল। মন মাতানো এমন দৃশ্য দেখতে কার না মন চায়। তাই এলাকার শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, ছুটে যায় অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। সমাগম ঘটে অনেক মানুষের।
দর্শনার্থী তুহিন হোসেন জানান, প্রতাপকাটি গ্রাম এখন একটি নান্দনিক গ্রাম। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রকৃতি প্রেমীরা এখানে ঘুরতে আসে, কাঁশফুল দেখে, অনুভুতি নেয় প্রকৃতি প্রেমীরা । প্রতিবছর শরৎকালে অক্টোবারে কাশফুল সাধারণত ফোঁটে। এখানে প্রকৃতিক দৃশ্য এবং চমকপ্রদ দৃশ্য দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন আসা-যাওয়া করে, কাশফুলের সুনাম করে।
দর্শনার্থী দুই বন্ধু মাহদী হাসান ও মুন্না হোসেন জানান, আমরা এসেছি কাঁশফুল দেখতে। এসে চমৎকার একটা বিকাল কাটালাম। খুব ভালো লেগেছে। আমরা সবাই ঘুরতে আসছিলাম বন্ধুরা। এখানে প্রতিবছর কাঁশফুল ফোটে। খুব সুন্দর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। কেউ না দেখলে বুঝতে পারবে না জায়গাটা কত সুন্দর। আমরা মাঝে মধ্যে আসি বেড়াতে।
স্থানীয় বাসিন্দা মহাসিন গাজি জানান, আমার বাড়ি ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের প্রতাপকাটি গ্রামে। কাশফুলের সময় বহুত লোকজন এসে ভীড় জমায় এখানে, ছবি তোলে, ঘোরাফেরা করে, ফুল নেয়। মোটরসাইকেল, ভ্যান, ইজিবাইক নিয়ে দলে দলে আসে। খুব ভালো জায়গা এটা। কাঁশফুল দেখে মানুষজন খুব আনন্দ পায়। রাস্তা দিয়ে চলাচল করা ব্যক্তিরাও গাড়ি থেকে নেমে ছবি তোলে, ফুল নেয়।
