#https://www.youtube.com/@mntvjashore3078

রূপসায় স্কুল ভবনের ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ; ঠিকাদার বলছে অন্য কথা-pen voice

 রূপসায় স্কুল ভবনের ত্রুটিপূর্ণ  ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ; ঠিকাদার বলছে অন্য কথা




আজিজুল ইসলাম, খুলনা প্রতিনিধি। 


রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কাজে ত্রুটি ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় স্কুল কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ প্রকার। ঠিকাদারী পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সিডিউল অনুযায় সঠিক মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করে সঠিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকালে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, নির্মাণাধীন চার তলা ফাউন্ডেশনের একতলা ভবনের ড্রপ ওয়াল সেন্টারিং এর সাটারিং কম থাকায় প্রেসার পড়ে বেঁকা হয়ে গেছে। অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার প্রসঙ্গে  স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শারমিন সুলতানা বলেন- এই স্কুলটি একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এটা বারবার নির্মাণ করা সম্ভব হয় না। তাই এ প্রতিষ্ঠানের নির্মাণে সিডিউল অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।আর তাই আমরা সেই চেষ্টাই করছি।  অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এতে সিলেকশন বালি দেয়ার কথা কিন্তু বালির মান খুব নিম্নমানের, ড্যাম পড়া ও জমাট বাঁধা সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছিল, যে খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে তা খুব নিম্নমানের হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করি। এবং রূপসা উপজেলা প্রকৌশলী জনাব ওয়াহিদুজ্জামান স্যারকে বললে তিনি সরজমিনে এসে এ ধরনের সিমেন্ট ব্যবহার করতে বারণ করে গেছেন। বালু ও খোয়ার ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি। আমরা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে সিডিউল অনুযায়ী গুণগতমানের নির্মাণ সামগ্রীর  সাথে আপোষ করতে পারিনা। তাই আমাদের দাবি সিডিউল অনুযায়ী যথাযথ মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হোক। পরিদর্শনে থাকা রূপসা এলজিইডি'র সহকারী প্রকৌশলী জুবায়ের হাসান এ বিষয়ে বলেন- আমি এই সাইডে নতুন এসেছি। আমি অনেক কিছু জানি না। তবে বালির একটু সমস্যা ছিল এবং সিমেন্ট বাদ দিয়ে দিয়েছি তাছাড়া ঠিক আছে । খুলনা সদর হাসপাতালের সামনে ভৈরব স্ট্যান্ড রোডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আশরাফ ট্রেডার্সের প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- কাজে কোন ত্রুটি হচ্ছে না। সিডিউলে যেমনটা উল্লেখ আছে ঠিক তেমনটি করছি। বৃষ্টির কারণে সিমেন্ট ড্যাম্প পড়ে গিয়েছিল সেটা বাদ দিয়ে দিয়েছি। নিম্নমানের খোয়া ও বালুর কথা তিনি বলেন ঠিক আছে। তিনি আরো বলেন এই কাজে আমাদের দশ লক্ষাধিক টাকা লোকসান হবে। যখন কাজটি আমরা পেয়েছিলাম তখন নির্মাণ সামগ্রী ইট, বালু, সিমেন্ট , রডের দাম ও লেবার কস্ট  ছিল একরকম। আর এখন তা বেড়ে অনেক হয়েছে। সুতরাং এ বিষয়টা বুঝা উচিত। ড্রপ ওয়াল বেঁকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন- ভাইব্রেটার বেশি হওয়ার কারণে একটু এদিক-ওদিক হতে পারে তাই যে সমস্যা হয়েছে। এটা সিমেন্ট-বালি দিয়ে ঠিক করে দেব।

এই স্কুল ভবনটি নির্মাণের শুরুর তারিখ ২০২১ সালের ৩ মার্চ ছিল এবং শেষ হওয়ার সময় ছিল একই বছরের ৩ ডিসেম্বর। যথা সময়ে ভবনটির নির্মাণ সম্পন্ন না হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে শিক্ষকদের দাবি। কারণ যেখানে সেখানে নির্মাণ সামগ্রী থাকায়। ও নির্মাণ যন্ত্রের শব্দের কারণে স্কুলটির  কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের  পাঠদান ও চলাচলে বিঘ্ন  ঘটছে। এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বিরাজ রয়েছে। ছ তাই স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি অতি দ্রুত স্কুলটি নির্মাণ করা হোক। এবং গুণগত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হোক। যা সিডিউলে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা ।

Post a Comment

Previous Post Next Post