মনিরামপুরে ছাত্রলীগ কর্মীকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান লিটন।
মনিরামপুর প্রতিনিধিঃ
মোটরসাইকেল জোরে শব্দ করে চালানোর অপরাধে ইউনিয়ন পরিষদের বারন্দায় ডেকে এনে ছাত্রলীগ কর্মীকে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে ভাইরাল হলেন মনিরামপুর উপজেলার ৫নং হরিদাসকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন লিটন।শুধু তাই না,পরে পরিষদের ঘরের মধ্যে নিয়ে দরজা স্লাইরেঞ্জ দিয়ে মারপিট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার বেরা ১১ টার দিকে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিদাসকাঠি ইউনিয়ন পরিষদে। এদিন দুপুরের পর থেকে মোটা লাঠি দিয়ে পেটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বাবুর মা মেহেরুন্নেছা পরিষদে গেলে তাকেও গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়,আজ(মঙ্গলবার) সকালে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ ওয়াজেদ আলী ও রমেশ বিশ্বাস ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামের আমজাদ হোসেন মোল্যার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু (২৪) কে পরিষদ ধরে আনেন। এরপর ইউপি চেয়ারম্যন আলমগীর কবীর লিটন বাঁশের লাঠি দুই হাত দিয়ে ধরে ছাত্রলীগ কর্মী বাবুকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাবুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় হরিদাসকাঠি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক সুবজ বিশ্বাস জানান, বাবু ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী। শুধু মোটরসাইকেলে শব্দ হওয়ার কারনে বাবুকে ধরে নিয়ে মারপিট করেছেন চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন লিটন। বিগত ইউপি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে নির্বাচন করেছিল বাবু। এই রাগে বাবুকে নৌকার বিদ্রোহী চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন লিটন বাবুকে মারপিট করতে পারেন বলে তার দাবি।
ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন লিটন অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি মাঠে গ্রীষ্মকালীন খেলাধূলা চলছিল। খেলা চলাকালে বিকট শব্দ করে বাবু মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল। এ কারনে তাকে শাসন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল জানান, মোটরসাইকাইকেল চালোনোর সময় পড়ে গিয়ে শব্দ হয়। শুধু এই অপরাধে বাবুকে পরিষদে ধরে নিয়ে পেটান চেয়ারম্যান লিটন। তিনি পরিষদের গিয়ে দেখেন ঘরে আটকিয়ে স্লাইরেঞ্জ দিয়ে মারপিট করছেন চেয়ারম্যান লিটন। চেয়ারম্যানকে নিবৃত করতে গিয়ে তিনিও নাজেহালের শিকার হন।
উল্লেখ্য, আলমগীর হোসেন লিটন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। বিগত ইউপি নির্বাচনে তিনি নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। এরপর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় আলমগীর হোসেন লিটন দল থেকে বহিষ্কার হন।
এ বিষয়ে মনিরামপুর থানার ওসি নূর-ই আলম সিদ্দীকি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
