মনিরামপুরের শ্যামকুড়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
স্টার্ফ রির্পোটার, মনিরামপুর (যশোর) থেকেঃ মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা খাবার বিতরণ ও শোক র্্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২০ আগস্ট (শনিবার) বিকেলে শ্যামকুড় ইউনিয়ন আ.লীগের উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা আ.লীগ নেতা ও শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলমগীর হোসেন।
এ সময় বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোররাতে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকেরা সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্তবাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগনে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তাঁর অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু, কর্নেল জামিলসহ ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও মহান স্বাধীনতার রূপকার। বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন ফাঁসির মঞ্চেও তিনি বাংলা ও বাঙালির জয়গান গেয়েছেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, যা ছিল মূলত স্বাধীনতারই ডাক। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন, অক্ষয় হয়ে থাকবে। যারা বাঙালি জাতির মহান নেতাকে ও তার সপরিবারকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে কঠিন শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, মনিরামপুর উপজেলা আ.লীগের সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বাবু অজিত কুমার ঘোষ, শ্যামকুড় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি শিক্ষক মোঃ আমজাদ হোসেন, ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা শিক্ষক মোঃ পলাশ হোসেন, লিটন কুমার পালিত, শরিফুল ইসলাম, আকরাম হোসেন, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক এস,এম নজরুল ইসলাম, উপজেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন কৃষকলীগের সভাপতি ওয়াহিদ মুরাদ সাগর, ইউপি সদস্য মোঃ ইকবাল হোসেন, সবুজ হোসেন, ইকরামুল কাবির, ফজলুর রহমান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ রবিউল ইসলাম, সবুজ হোসেন, জুয়েল রানা, বাপ্পি, আব্দুস সালাম, রাশেদ প্রমুখ।
