#https://www.youtube.com/@mntvjashore3078

মণিরামপুরে হাতপাখার প্রচলন কমে যাওয়ায় পেশাদাররা মানবতার জীবন-যাপন করছেন

 মণিরামপুরে হাতপাখার প্রচলন কমে যাওয়ায় পেশাদাররা মানবতার জীবন-যাপন করছেন



মামুন-উর-রশিদ,স্টাফ রিপোর্টার  যশোর: গ্রামীণ জনপদের গৃহস্থলীর অতি পরিচিত একটি সামগ্রী তালপাতার পাখা। গরম থেকে বাঁচতে শীতল বাতাসের খোঁজে পাখার ব্যবহার করা হয়। বাড়ি আত্মীয়-স্বজন আসলে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় তালপাতার হাতপাখা। কিন্তু কালের বিবর্তনে সভ্যতার নতুন দিগন্তে এসে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী তালপাতার পাখার উপস্থিতি প্রায় বিলুপ্তির পথে। পাখার বিলুপ্তির পাশাপাশি  কারিগররাও সাংসারিক জীবনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। 


এক যুগ আগেও যশোরের মণিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় হাতপাখার ব্যাপক প্রচলন ছিল। প্রখর দাবদাহে পাখা ছিল গ্রাম বাংলার মানুষের একমাত্র সঙ্গী। বিগত কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন সাংস্কৃতি, পূজা পার্বণসহ নানা অনুষ্ঠানে তালপাতার হাতপাখা বেশ প্রচলন ছিল। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে হাত পাখার পরিবর্তে মানষের ঘরে ঘরে প্রবেশ করেছে বৈদ্যুতিক ফ্যান, কুলার বা এসি। যার ফলে হাতপাখার কদর একেবারেই কমে গেছে। আজকাল ফ্যান এসির ভিড়ে এসবের ব্যবহার নেই বললেই চলে। তবে লোডশেডিং হলে হাতপাখার কদর উপলব্ধি করা যায়।


কারিগররা জানান, তালপাতার পাখা তৈরিতে সাধারণত দরকার হয় তালপাতা, বাঁশের শলাকা, কুঞ্চি, সুতা-সুই ও রং। প্রথমে শুকনা তালপাতা কয়েক ঘণ্টা জলে ডুবিয়ে জাঁক দিয়ে পানি থেকে তুলে রোদে শুকিয়ে সেই পাতা সোজা করা হয়। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে গোল করে পাতা সাইজ করে কেটে, ভালো করে বাঁশের শলাকা দিয়ে সুই-সুতা দিয়ে বেঁধে রং করে তারপর বাজারে বিক্রি করা হয়।  


কারিগরদের অভিযোগ, পাখার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। পাখা তৈরি করে বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। এখন আগের মত পাখা বিক্রি হয় না। তাছাড়া তালপাতা, বাঁশ, সুতার দামও বেশি। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন। তালপাতার পাখা বিক্রির সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 


হাতপাখা তৈরিকারক জামান মালী, আজিত মালী, আছিয়া বেগমসহ কয়েকজন জানান, চৈত্র মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত তালপাতার পাখা বিক্রি হতো বর্তমানে তা আর হয় না। বাড়ির লোক অন্য কোন কাজ করতে পারে না। তাই লাভ-লোকসান হিসেব না করে ব্যবসা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছি। এখন আমাদের বংশীয় পেশাদারী কাজ না থাকায় আয় রোজগার কম হয়ে গেছে। এ কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছি।

Post a Comment

Previous Post Next Post